
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঠেকাতে পরীক্ষামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। পর্যটক এক্সপ্রেসের একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগিতে চারটি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পরীক্ষা সফল হলে পর্যায়ক্রমে অন্য ট্রেনেও ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. মামুনুল ইসলাম জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে একটি বগির দুই পাশে দুটি করে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে অন্যান্য ট্রেনেও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২২ আগস্ট চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপে ৩৯ বছর বয়সী এক যাত্রী মাথায় গুরুতর আঘাত পান। রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় ট্রেনটি পথে থামিয়ে তাঁকে বোয়ালখালীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর আগে ২৭ এপ্রিল চকরিয়ায় একই ট্রেনে পাথরের আঘাতে তিন যাত্রী আহত হন। তাঁদের একজনের চারটি দাঁত ভেঙে যায়। ১৭ জানুয়ারি পর্যটক এক্সপ্রেসে পাথরের আঘাতে আহত হয় নয় বছরের এক শিশু।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলে পাথর নিক্ষেপের ২২৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের পর্যটক এক্সপ্রেসে ২৪টি এবং কক্সবাজার এক্সপ্রেসে ১৯টি ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি পাথর নিক্ষেপের শিকার হওয়া পাঁচটি ট্রেনের তালিকায় রয়েছে এই দুটি ট্রেন।
চট্টগ্রাম রেলওয়ের বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশিকুর রহমান জানান, ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি এখনো গবেষণা ও উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। একটি বগিতে ক্যামেরা থাকায় পুরো ট্রেনের ঘটনা ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সম্প্রতি পাহাড়তলীতে পাথর নিক্ষেপের একটি ঘটনায় সরাসরি পাথর ছোড়ার দৃশ্য ধরা না পড়লেও ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। ভবিষ্যতে ট্রেনের সামনে ও পেছনে ক্যামেরা স্থাপনসহ কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন ও সুপারিশ তৈরি করা হবে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন কান্তি দে বলেন, কক্সবাজার রুটে ডুলহাজারা, চকরিয়া, রামু ও ইসলামাবাদ এলাকায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেশি ঘটে। শিশু-কিশোরদের কৌতূহল এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ক্যামেরা স্থাপন করা হলে অপরাধী ও ঘটনার স্থান শনাক্ত করা সহজ হবে।
রেলওয়ে পুলিশ পাথর নিক্ষেপের অসংখ্য ঘটনার মধ্যে মাত্র ১১টি মামলা করেছে এবং গ্রেপ্তার করেছে তিনজনকে। অথচ ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারায় ট্রেনের যাত্রীদের বিপন্ন হতে পারে জেনেও কোনো কিছু নিক্ষেপ করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কমপক্ষে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়। বর্তমানে এ পথে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে দৈনিক আট থেকে নয় হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন।